Online Game এর প্রতি আসক্তি কমানোর উপায়

Online Game বা অনলাইন গেইম এর প্রতি আসক্তি কমানোর উপায়

বর্তমান তরুন প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অনলাইন গেইম। তথ্য প্রযুক্তির যুগে তথ্যকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই অনেক কিছু করছে। গুগলে ব্লগিং করা থেকে শুরু করে অনেক ভালো ভালো কাজ করা হচ্ছে বর্তমানে এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে।

Online Game
Online Game এর প্রতি আসক্তি কমানোর উপায়

 

বর্তমান সময়ে অনলাইন গেইমের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে গেছে। আমাদের মধ্যে বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রী, শিশু, বয়স্ক প্রায় সকলেই এই অনলাইন গেইমের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। যদি অনলাইন গেইম বা ভিডিও গেইম গুলো বন্ধ করার জন্য অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে।

এমনকি বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর অনেক কয়েকটি দেশ থেকে ফ্রিফায়র পাবজি সহ সকল প্রকার অনলাইন গেইম গুলো বেন  করে দেওয়া হয়েছে। যদিও ব্যান করার অনেক গুলো কারণ রয়েছে। তবে আজকে আমরা সেই বিষয় সম্পর্কে কথা বলবো না।

আজকের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন কিভাবে অনলাইন গেইম এর প্রতি আসক্তি কমানো যায়। এমন ক্ষতিকারক গেইম গুলো থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের এই প্রতিবেদনটি আপনাকে অনেক সাহায্য করবে।

প্রতিবেদনটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য অনুরোধি থাকবে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক অনলাই গেইম থেকে বেরিয়া আসার কয়েকটি উপায় সম্পর্কে।

 

Online Game এর প্রতি আসক্তি কমানোর উপায়

১. নিজেকে ব্যাস্ত রাখতে হবে

 

অনলাইন গেইম এর প্রতি আসক্ত কমানোর জন্য আপনাকে সবসময় ব্যস্ত রাখতে হবে। এই পয়েনটি গেইম আসক্তি কমানোর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষনীয় একটি পয়েন্ট। কারণ এই পয়েন্টির জন্য আপনি কিছু সময় হলেও গেইমকে ভূলে থাকতে পারবে।

আপনি যদি এই পয়েন্টা ঠিক মতো পালন করতে পারেন তাহলে অবশ্যই গেইমস আসক্ত থেকে নিজেকে কিছুটা বাচাতে পারবেন।

নরমালি আপনি একটু ভেবে দেখেন ধরুন আপনার বিদ্যালয় থেকে আপনার হাতের লেখা দিয়েছে অনেক। সেক্ষেত্রে আপনি যদি বিদ্যালয়ের লেখাটি কম্পিলিট করতে চান তাহলে আপনাকে লেখার পেছনে সময় দিতে হবে। এভাবে আপনি নিজেকে কিছু সময় ব্যস্ত রাখতে পারবেন। আর আপনি যেই সময়টুকু নিজেকে ব্যস্ত রেছেছিলেন সেই সময়ে আপনি ক্ষতিকারক অনলাইন গেইম থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পেরেছেণ।

এভাবে আপনি যদি নিয়োমিত কয়েকদিন প্রেকটিস করেন তাহলে দেখবেন যে গেইম খেলার আসক্তটা আপনার মধ্যে আর দেখা যাচ্ছে না। তাই গেইম থেকে মুক্তি পেতে হলে এই বিষয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ একজন শিক্ষার্থীর জন্য।

 

২. রুটিন অনুযায়ী চলতে হবে

 

রুটিন এমন একটি জিনিস যেটি আপনাকে সকল নেশা জাতীয় গেইম থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে। আপনারা অনেকেই স্টুডেন্ট লাইফে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস করেছেন। এক্ষেত্রে আপনি লক্ষ করে দেখেছেন যে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস করলে সকল ক্লাস শেষ করা যায়।

ঠিক তেমনই আপনি যদি রুটিন অনুযায়ী আপনার জীবন পরিচালনা করেন তহালে এমন ক্ষতিকারক গেইম থেকে নিজেকে বিরত থাকতে পারবেন।

রুটিন বলতে আপনি আপনার পুরো দিনের সময়কে কিছু খন্ডে ভাগ করে নেওয়া বোঝানো হয়। এই সময়ে ভাগ করার মাধ্যমে আপনি গেইম থেকে কিছুটা হলেও দূরে থাকতে পারবেন। আশা করি এই বিষয়টি আপনারা বুঝতে পেরেছেন।

রুটিন অনুযায়ী চললে অনেক সময় অনেক অভ্যাস থেকে দূরে থাকা সহজ হয়ে যায়। আমি এর আগে বদ অভ্যাস থেকে কিভাবে দূরে থাকা যায় এমন বইতে কয়েকটি নিয়ম দেখেছিলাম। সেখানে বলা হয়েছিল যে, যদি আপনি কোন কাজকে ৫ মিনিট পরে করবেন এমন ভাবেন।

মানে আপনি একটা কাজ করবেন সেটা মনে মনে ভাবলেন এই কাজটা ৫ মিনিট পরে করবো। তাহলে সেটাতে অনেক দ্রুত অভ্যাস ত্যাগ করা যায়। আর যদি এমন হয় যে, আপনি ৫ মিনিট করতে করতে অনেক সময় চলে যাওয়ার পর আর সেটা মনেই থাকলো না।

আসলে ডাক্তাররা এমনটাই পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আর আমরাও অনেক সময় এভাবেই কাজ করে থাকি। অনেক ডাক্তার আছেন যারা নিয়মিতই সাজেশান দেন এসব বিষয়ে এবং নিয়মিতই তারা বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ করে মানসিক চিকিৎসার বিষয়টা অনেক গুরুত্বসহকারে দেখে থাকেন।

 

৩. ইলেকট্রনিক্স ডিভাইজ থেকে দূরে থাকতে হবে

 

এই পয়েন্টি গেইম আসক্তি থেকে বাঁচার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। এই বিষয়টির মাধ্যমে আপনি গেইম আসক্তি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারবেন খুব সহজেই। ইলেকট্রনিক্স ডিভাইজ বলতে এখানে বোঝানে হয়েছে মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদি যন্ত্রকে।

আসলে গেইম খেলতে হলে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইজ অর্থাৎ ভালো মোবাইল এর প্রয়োজন হয়। আর আপনি যখন এই মোবাইল থেকে দূরে থাকবেন তখনই গেইম খেলা থেকেও দূরে থাকতে পারবেন। এক্ষেতে আপনি আপনার ফোনকে আপনার বাবা-মায়ের কাছে রেখে দিতে পারেন।

এবাবে কিছুদিন নিয়োমিত মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকলেে একটা সময় দেখা যাবে যে আপনার আর গেইম এর প্রতি আসক্ত নেই। আর যদিও আসক্ত থাকে সেটি অল্প পরিমাণের। বিষয়টি আশা করি সকলেই বুঝেছেন।

 

>> Online Game এর প্রতি আসক্তি কমানোর উপায়

 

৪. সময়কে গুরুত্ব দেওয়া

 

কথায় আছে সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। আসলে এই কথাটি চিরন্ত সত্য এবং প্রমাণিত। আপনি যদি সময় অনুযায়ী নিজেকে চলাতে পারেন তাহলে অবশ্যই অনলাইনে ক্ষতিকারক গেইম আসক্তি থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

যখন আপনি গেইম খেলবেন তখন খেলাটাকে কিছু সময়ের মধ্যে ভাগ করে নিবেন। সময়ের মধ্যে ভাগ করার কারণে আপনি গেইমটিকে আপনার নিয়ন্ত্রনেই রাখতে পারবেন। আশা করি এই বিষয়ে আপনাদের আর কিছু বলা লাগবে না।

সময়কে গুরুত্ব না দিলে আমরা কোন কাজই ভালো মত করতে পারবো। আপনার কোন কাজ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কোন কাজটা কম গুরুত্বপূর্ণ এটা আসলে আপনাকেই জানতে হবে। আর কোন কাজ কোন সময়ে করতে হবে এবং কেন করতে হবে সেসব প্রশ্নগুলো যদি আপনি বের করতে পারেন তাহলে দেখবেন আপনার কাজ সময়কে গুরুত্ব দেওয়া সহজ হয়ে যাবে।

আমাদের দেশে অনেকেই আছেন যারা নিয়মিতই অনলাইনে কাজ করে থাকেন। বাইরের দেশের কাজ করে থাকেন। তারা অবশ্যই এই বিষয়টাকে অনেক বেশি ‍গুরুত্ব দিয়ে থাকবেন। কারণ সময় কতটা দামি জিনিস তা শুধুমাত্র তাই ভালো বুঝতে পারেন। তাই আপনি যদি রুটি করে সময়কে গুরুত্ব দেন তাহলে অভ্যাসকে ত্যাগ করা আপনার জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

>> Online Game এর প্রতি আসক্তি কমানোর উপায়

৫. গেইম থেকে মন সরিয়ে রাখুন

 

এই পয়েন্টি দেখে আপনারা অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন। কিভাবে আমরা গেইম থেকে মনকে সরিয়ে রাখতে পারি? কারণ গেইম এমন একটি জিনিস যা থেকে কখনই মনকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবেন না। এজন্য আমি আপনাদের একটি উপায় বলে দিবো, যার মাধ্যমে আপনি নিজেকে অনলাইন ক্ষতিকারক গেইম থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবেন।

শুরুতেই আপনাকে যেই বিষয়টি জানতে হবে সেটি হলো আপনার যখনই গেইম খেলার ইচ্ছা জাগবে। তখন অন্য কোনো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। যেমন ধরুন আপনি সকালে গেইম খেলেন, সেই সময়ে আপনি একটি গল্পের বই বড়তে পারেন। অথবা একটি শিক্ষাণীয় ভিডিও দেখতে পারে। আর এভাবে আপনি অনলাইনে ক্ষতিকারণ গেইম থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবেন।

 

Online Game এর প্রতি আসক্তি কমানোর উপায় শেষ কথা

 

আসলে গেইম এমন একটি ক্ষতিকারণ জিনিস যা আপনার জীবনকে ধ্বং করে দিতে পারে। কেড়ে নেয় আপনার মূল্যবান সময়কে। আর আমরা সকলেই জানি সময়ের সঠিক ব্যবহার সময়েই করতে হয়। অন্যথায় পরে পস্তাতে হয়।

আশা করি আমাদের এই প্রতিবেদনটি আপনার অনেক ভালো লেগেছে। আর এই প্রতিবেদনটি আপনার জীবনকে বদলেও দিতে পারে। মূল্যবান সময় দিতে প্রতিবেদনটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসখ্য ধন্যবাদ। আর এমন শিক্ষানীয় প্রতিবেদন পেতে হলে আমাদের ওয়েব সাইটের সঙ্গেই সবসময় থাকবেন।

 

টেগ

অনলাইন গেইম

ভিডিও গেইম

1 thought on “Online Game এর প্রতি আসক্তি কমানোর উপায়”

Leave a Comment