ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য Online Game কতটা ক্ষতিকর

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য Online Game কতটা ক্ষতিকর জেনে নিন

বর্তমানে Online Game বিষয়টা অনেক বেশি জনপ্রিয় একটি বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে আমাদের মাঝে। সকল বয়সীয়রাই এর প্রতি আসক্ত বলা যায়। এ থেকে বের হওয়া উচিত আমাদের।

আমরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করছি গেইম এর নেশায় পড়ে। বিশেষ করে যাদের বয়স কম তাদের জন্য বিষয়টা অনেকটাই ক্ষতিকর।

Online Game
  ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য Online Game কতটা ক্ষতিকর

২০১৮ সালের শেষের দিকে ভালো স্মার্টফোন বাজারে আসার পর থেকেই আমাদের দেশে অনলাইনে প্রচুর ঘোরাফেরা শুরু হয়েছে নতুন প্রজন্মদের। আসলে এর অন্যতম কারণ হলো সবার হাতে হাতে প্রযুক্তি চলে যাওয়া।

আমাদের সন্তানদেরকে আমরা যখন প্রযুক্তির ব্যবহার না শিখিয়ে সেটা চালাতে দেবো তখন সেটার একটা প্রভাব পড়বেই। আর সেই প্রভাবের কারণেই বর্তমানে অনেক সমস্যার সম্মখীণ হচ্ছেন অভিভাবকরা।

আসলে অনলাইন গেইম মানসিক সমস্যার সাথে যুক্ত হয়ে গেছে। ছাত্রদের জন্য ভিডিও গেইমের আসক্তির সত্তি সত্তি কোনো ক্ষতি করে কিনা এটা আসলেই একটা প্রশ্ন। আমেরিকার সাইকোলজিকাল অ্যাসোসিশন অনুসারে ছাত্রদের জন্য কতটা ক্ষতিকার এটি তুলে ধরেছে।

আমি আজকের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে কতটা ক্ষতিকারক সেই সম্পর্ বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্ট করবো। তাহলে চলুন কয়েকটি পয়েন্টের মাধ্যমে তুলে ধরা যাক।

 

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য Online Game কতটা ক্ষতিকর

 

১. কাজের প্রতি আগ্রহ হাড়ায়

২. শিক্ষাগত ক্যারিয়ার নষ্ট করে

৩. অনেক সময় নিজেকে নিয়ন্ত্র করতে ব্যর্থ হয়

৪. অপরাধবোধ কাজে জরার সম্ভবনা থাকে

৫. ব্রেইন মানসিক ভাবে ক্ষতি করে

 

উপরের এই কয়েকটি বিষয় ছাড়াও আরো অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে ছাত্রদের জন্য। অনলাইন গেইমের এই ক্ষতিকারণ দিক গুলো সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

 

১. কাজের প্রতি আগ্রহ হাড়ায়

 

অনলাইনে গেইম খেলা ছাত্রদের জন্য যেই বিষয় বেশি ক্ষতিকর সেটি হলো কাজের প্রতি আগ্রহ হাড়ায়। আসলে অনলাইন গেইম একটি নেশা জাতীয় দ্রব্যের মতো। যদি কেউ একবার এই নেশায় প্রবেশ করে তাহলে তা থেকে বের হওয়া অনেক কঠিন।

আপনি যদি পরিপূর্ণ গেইম এর মধ্যে আসক্ত হয়ে যান তাহলে এক সময় দেখা যাবে যে আপনার কাজের প্রতি আগ্রহ হাড়িয়ে গেছে। কারণ আপনি যখণ গেইম খেলেন তখন পাশের যদি কেউ আপনি কোনো কথা বলে সেই ঠিকমতো ব্রেইনের মধ্যে প্রবেশ করে না। ফলে বিভিন্ন কাজের প্রতি মনোযোগ থাকে না।

তাই ছাত্রদের জন্য এই বিষয়টি অনেক ক্ষতিকর। কারণ হলো তারা যখন পড়াশনার মধ্যে থাকবে তখন ঠিক মতো মনোযোগ দিতে পারবে না।

 

২. শিক্ষাগত ক্যারিয়ার নষ্ট হয়

 

অনলাইন গেইম আর শিক্ষাগত ক্যারিয়ার এই দুইটি একে অপরের সাথে জরিত। আপনি যদি গেইম খেলেন তাহলে আপনার শিক্ষাগত ক্যারি নষ্ট হবে এটাই স্বাবাবিক। আপনি প্রেটিকেলি যদি একটু চিন্তা করে দেখেন তাহলেই সব বুঝে যাবেন।

ধরুন গত মাসে আপনার ফাইনাল পরিক্ষা হবে আর আপনি অনলাইন গেইম এর মধ্যে সময় দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে যখন আপনার পরিক্ষা সমনে চলে আসবে তখন কিন্তু আপনার পরিক্ষার জন্য ঠিকমতো প্রস্তুতি হবে না। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য Online Game কতটা ক্ষতিকর।

কারণ গেইম খেলার জন্য আপনি ঠিকমতো পড়ার সময় পাননি। ফলে আপনার পরিক্ষাও অনেক খারাপ হবে। আর এভাবেই শিক্ষাগত ক্যারিয়ার নষ্ট হয়। আর ছাত্রদের জন্য তো এটি আরো অনেক ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।

আমরা যারা অভিভাবক আছি তারা অবশ্যই বিষয়টাকে অনেক বেশি গুরুত্বসহকারে দেখবো। কারণ এর সাথেই আমাদের সন্তানদের ভভিষ্যৎ আছে। আর পড়াশোনার সময়টাতে যেন পড়াশোনা ঠিকমত করতে পারে সেদিকটাতে আমাদেরকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

বাইরের দেশের পড়াশোনার সিস্টেমটা আসলে আলাদা। আমাদের দেশের অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম এখনও সেভাবে চালু হয় নাই। আর আমাদের দেশের সবগুলো প্রতিষ্ঠান মুখস্ত নির্ভর পড়াশোনায় অভ্যস্ত এর মধ্যে যদি কেউ পড়াশোনার সময় খেলায় ব্যস্ত থাকে।

তাহলে সে তার ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারকে নষ্ট করবে। আসলে আমরা যারা অভিভাবক আছি তারা এই বিষয়টাকে অনেক বেশি গুরুত্বসহকারে দেখার চেস্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

আরো পড়ুন >> ডিজিটাল মার্কেটিং এ ফেইক আইডি সম্পর্কে সচেতনতা

৩. অনেক সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে ব্যর্থ হয়

 

আসলে অনলাইনে ভিডিও গেইম এর আসক্তি এমন একটি মারাক্তক ক্ষতিকারণ দিক যার ফলে আপনি নিজেই নিয়ন্ত্র করতে ব্যর্থ হবেন। আমি এ পর্যন্ত অনেক মানুষকে দেখেছি যে তারা এই মারাক্তক ক্ষতিকারব সমস্যার মধ্যে পরেছে।

আপনি মাথা খাটালেই একটু বঝতে পারবেন যে কেন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। আসলে গেইম এর আসক্তিটা এমন পর্যায়ে যায় যে আপনি একটি দিন গেইম না খেলতে পারলে পাথা নষ্ট হয়ে যায়। ঠিক বলতে পারেন নেশার মতো। ফলে আপনি নিজের অজান্তের অনেক কিছু করে বসেন। নিজের অজান্তের মুখ দিয়ে আজেবাজে কথা বের হয়তে থাকে।

আর ছাত্রদের জন্য এই বিষয়টি মারাক্তক ভাবে প্রভাব ফেলে। কারণ ছাত্ররা যদি এই ক্ষতিকারক দিকের মধ্যে পরে যায় তাহলে নিজের ক্যারিয়ারকেই নষ্ট করে ফেলবে। আর এটি হবে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে না পারা ফল। তাই এখণ থেকেই ছাত্রদের সচেতন হতে হবে।

 

৪. অপরাধবোধ কাজে জরার সম্ভবনা থাকে

 

অপরাধবোধ কাজ বলতেই আমাদের মনে হয় মারামারি, ঝগরা-ফাসাদ, খুন, ইত্যাদিকে বুঝে থাকি। এখন আপনাদের মাথায় প্রশ্ন জাগতে পারে যে অনলাইন গেইম এর সাথে মারামারি বা খুন এমন অপরাধ বোধ কাজের সম্পর্ক কিভাবে?

এর সঠিক উত্তর হলো আমি আগেই বলেছি যে অনলাইন গেইম একটি ক্ষতিকারক নেশা। এর ফলে আপনি নিজের অজান্তেই অপরাধবোধ কাজ করে ফেলতে পারেন। কারণ হলো গেইম খেলার জন্য নিজের মনকেই তখন নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন না।

এছাড়াও যদি আপনাকে অনলাইন গেইম সম্পর্কে কেউ যদি বাজে কথা বলে তখন কিন্তু আপনার মাথা একদম ঠিক থাকবেন না। কারণ হলো আগেই বলেছি এটি একটি নেশা। তখন আপনি নিজের অজান্তের এমন মারাক্ত কাজ করতে পারেন।

আর ছাত্রদের জন্য তো এটি আরো ভয়ানক ক্ষতিকর। কারণ এমন অপরাধ তাদের শিক্ষগত ক্যারিয়ারকেই নষ্ট করে দিতে পারে। তাই এই বিষয়ে সকল ছাত্রদের আগে থেকেই সচেতন থাকতে হবে। আশা করি সকলেই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

 

৫. ব্রেইন মানসিক ভাবে ক্ষতি করে

 

এই বিষয়টি একটি শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ক্ষতিকারক। কারণ ব্রেইনের ক্ষতি মানে ব্যাক্তিগত ভাবে আপনি নেজের ক্ষতি করছেন। অনেকেই বলতে পারেন যে গেইম খেলার সাথে ব্রেইনের সম্পর্ক কোথায়।

আসলে সবকিছুই কোনো না কোনো ভাবে জরিত থাকে। গবেষণ বলতে একটানা কিছু সময় যদি সাদা পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা যায় তাহলে চোখের ক্ষতি হয়। আর বিজ্ঞান বলছে যে চোখের ক্ষতি মানেই ব্রেইন এর ক্ষতি।

কারণ চোক, কান, নাক, মুখ ইত্যাদি অঙ্ক আমাদের ব্রেইনের সাথেই জরিত। যার ফলে চোখের ক্ষতি মানেই ব্রেইনের ক্ষতি হচ্ছে। আশা করি এই বিষয়টি সকলেই বুঝতে পেরেছেন। নতুন করে আর বোঝানোর প্রয়োজন নেই।

 

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য Online Game কতটা ক্ষতিকর শেষ কথা

 

আসলে খেলাধূলা আমাদের শিক্ষার একটি অংশ। সব গেইম যে আমাদের জন্য ক্ষতিকারক তেমনটা কিন্তু নয়। কিছু গেইম আছে আমাদের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে এই গেইম গুলো অনলাইন নয় অফলাইনের গেইম।

সময় হয়ে এই বিষয় আরো একটি প্রতিবেদন তৈরি করবো। আজকে এইপর্যন্তই, আশা করি প্রতিবেদনটি আপনার অনেক ভালো লেগেছে। আর এটাও কমেন্টে জানিয়ে দিবেন যে এই প্রতিবেদন থেকে আপনি কোনো শিক্ষা নিতে পেরেছেন কিনা।

এমন শিক্ষানীয় প্রতিবেদন পেতে আমাদের এই ওয়েবসাইটের সঙ্গেই সবসময় থাকবেন। আর আপনার মূল্যবান সময় ব্যায় করে প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য অসখ্য ধন্যবাদ।

 

টেগ

 

অনলাইন গেইম

1 thought on “ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য Online Game কতটা ক্ষতিকর”

Leave a Comment