অনলাইনে ভিডিও গেইম খেলার অসুবিধা কি

অনলাইনে ভিডিও গেইম খেলার অসুবিধা কি

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে আপনি টেকনোলজিকে অনেক বেশি জানার চেষ্টা করবেন। যেমন, ভিডিও গেইম খেলা বর্তমান সময়ের অন্যতম একটি সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।

ভিডিও গেইম
ভিডিও গেইম কনসোল (ইংরেজি: Video game console) একটি স্বতন্ত্র গেমিং ডিভাইস। এ ডিভাইসটি কম্পিউটার বা টেলিভিশনের সাথে যুক্ত করে উচ্চমানের রেজুলেশনের বিভিন্ন ভিডিও গেইম খেলা যায়। পঞ্চাশের দশকে সর্বপ্রথম কম্পিউটার গেইম বাজারে আসলেও ম্যাগনাভক্স নামক স্বতন্ত্র ভিডিও গেইম কনসোল বাজারে আসে ১৯৭২ সালে।

ছাত্র-ছাত্রীরা করোনার সময়টাতে পড়াশোনার বাইরে থাকার সময়ে এই ধরনের গেইমের প্রতি আসক্তি হয়ে পড়েছে।

ভিডিও গেইম খেলার জন্য কি সমস্যা বা অসুবিধা হতে পারে নিচে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছি।

১. ঘুম কম হওয়া 

আমরা যারা গেইম খেলি সাধারণত তারা রাতের বেলায় সবাই যখন ঘুমাই তখন খেলে। আর অনেক সময় দেখা যাচ্চে যে, রাতে গেইম খেলার জন্য সময়মত ঘুমানো হচ্ছে না। যার ফলে ঘুম কম হচ্ছে।

এজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের এই সময়টাতে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। আর নিয়ম মেনে না চললে আপনি যেমন সমস্যায় পড়বেন তেমনি অন্যরাও দেখে সচেতন না হাওয়ার কারণে সমস্যায় পড়বে।

আমাদের দেশের ছোটরা সাধারণত গেম খেলে ‍ঘুমের সময়টাতে। যেমন, রাতে আমরা সাধারণত ঘুমাই আর বেশির ভাগ গেম যারা খেলেন তারা রাতেই খেলেন। অনেক ডাক্তাররাই বলে থাকেন রাতে ঘুমের সময় যদি গেম খেলা যায় তাহলে আমাদের মাথা থেকে এক ধরনের হরমোন নিঃসরণ যা সময়মত হয় না।

শরীরের জন্যও আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে। যদিও ছোটরা নিজেদের শরীর নিয়ে তেমন একটা ভাবে না। আর সেদিক থেকে অবশ্যই বড়দেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

 

আরো পড়ুন >> যে ৭টি ক্ষতি হবে যদি আপনি রাতে না ঘুমান

আরো পড়ুন >> রাত ঘুম কম ও না হওয়ার কারণ ও সমাধান

 

আশা করি উপরের দুটি আর্টিকেল পড়লে আপনি ঘুমের গুরুত্বটা বুঝতে পারবেন। এবং আপনার পরিবারের এই বিষয়টা সম্পর্কে নিজেইসচেতন করতে পারবেন।

 

২. চোখের সমস্যা হয় অতিরিক্ত গেম খেলার কারণে

আমরা যারা কম্পিউটার ব্যবহার করি। বা অনেক বেশি পরিমাণে মোবাইল ব্যবহার করে থাকি তারা নিশ্চয় এই বিষয়টা বুঝতে পারবো। আর অনেক সময় আমাদের মানসিক সমস্যাগুলো হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবেও অনেক গবেষক এই অতিরিক্ত গেম খেলাটাকে বুঝিয়েছেন।

গেম খেলার সময় আসলে একটানা অনেক সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। আমরা হয়তো তাৎক্ষনিক বুঝতে পারি না কিন্তু পরে ঠিকই বুঝতে পারবো। হয়তো শরীরের অবস্থা ভালো থাকার কারণে সমস্যাগুলো বোঝা যায় না।

কিন্তু সমস্যা আসলে হতে থাকে। আামদের ব্রেনের হরমোনগুলোর নিঃসরণ ঠিকমত না হলে এর একটা খারাপ প্রভাব পরে হলেও পড়বে। আর এই ধরনের প্রভাবগুলো আমাদেরকে অনেকটাই ভোগান্তিতে ফেলতে পারে বলে অনেক ডাক্তার মনে করেন।

বর্তমান সময়ে অনেক ছাত্র-ছাত্রীদেরকেই দেখা যায় চোখে চমশা পড়তে। এর একাধিক কারণগুলো মধ্যে রয়েছেঃ-

(ক) খাবার ঠিকমত না খাওয়া। 

(খ) পুষ্টিকর ও ভিটামিনযুক্ত খাবার না খাওয়া বা কম খাওয়া। 

(গ) চোখের জন্য ভালো এমন খাবার অপছন্দ করা। 

(ঘ) অতিরিক্ত স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা।

(ঙ) ইত্যাদি। 

আসলে আমরা চাইলে নিজেদের ছোট ছোট সমস্যাগুলো নিজেরাই সমাধান করে ফেলতে পারি। আর এই সমস্যা সমাধারণ করার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে এবং নিয়ম মানতে হবে।

আরো পড়ুন >> ভিডিও গেইম ফতোয়া নিয়ে ইরাকে ইমামরা কেন বিভক্ত ?

 

৩. ম্যাজাজ বা আচরণ খিটখিটে হয় অতিরিক্ত গেম খেলার কারণে

অনেক সময় আমরা দেখবো যে, বাসায় মেহমান বা কেউ বেড়াতে আসলে আমাদের সন্তানরা তাদের সাথে কথা বলতে চায় না। তারা তাদের কাজ নিয়ে মানে সেই গেইম খেলা নিয়েই ব্যস্ত রাখে নিজেদেরকে।

এটাও এক প্রকারের খারাপ প্রভাব গেম খেলার। তাদের সাথে আপনি যদি জোর করে কথা বলতে চান তাহলে তারা অনেক সময় খারাপ আচরণ করে বসবে। বা নিজেরা ব্যস্ত সেই বিষয়টা সরাসরিই বলবে। গেম খেলাতে নিজেদের সময় নস্ট হচ্ছে সে বিষয়ে তারা বুঝতে চাইবে না। আসলে এটাই স্বাভাবিক।

অনেক গেইম আছে যেটাতে স্টেপ দেওয়া থাকে। আর পয়েন্ট বের করতে দেওয়া হয়। এখানে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন দেখলে। পয়েন্টগুলো যদি নিজে দেখেন আরও পয়েন্ট করার আগ্রহ আপনার হবে। আর এই বিষয়টা বাচ্চা থেকে কিশোরদেরকে গেমের প্রতি আসক্তি করে তোলে।

 

আরো পড়ুন >> অনলাইনে ভিডিও গেইম খেলার সুবিধা কি

আরো পড়ুন >> মোবাইল গেইমিং আসক্তি দূর করার উপায়সমূহ

 

উপরোক্ত বিষয়গুলো থেকে আমরা সহজেই বুঝতে পারি যে, বর্তমান সময়ে অনলাইনে হোক আর অফলাইনে হোক গেইম খেলার অনেক বেশিই অসুবিধা। আসলে আমরা নিজেরাই নিজেদের শত্রু। আমরা নিজেরা অনেক সময় নিজেদের ভালো করতে গিয়ে খারাপ করে ফেলি।

ইন্ডিয়ার একটি রাজ্যে ভিডিও গেইমকে কেন্দ্র করে একবার একটা ছেলেকে হত্যা করা হয়েছি। তেমনি পারিবারিকভাবে তো সমস্যা প্রতিনিয়তই লেগে আছে। অনেক সময় দেখা যায় যে, অনেক রেকটিকটেড পরিবারগুলো আমাদেরকে এই ধরনের সুবিধা দেয় না।

অনেক পরিবার আছে এমন যাদের কোন ভালো দামি ফোনই নেই। তারা নরমাল ফোন দিয়েই সব কাজ চালিয়ে নেয়। আসলে আমরা অনেক সময় নিজেরাই এই ধরনের কাজগুলোকে অনেকটাই সহজসাধ্য হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। আর গেইম নিয়ে কনটেন্ট লিখাটাও অনেকটাই কঠিন। আশা করি আর্টিকেলটি থেকে ভালো ধারণা পেয়েছেন এই সম্পর্কে।

1 thought on “অনলাইনে ভিডিও গেইম খেলার অসুবিধা কি”

Leave a Comment