মোবাইলে হেডফোনের সতর্কতা তথ্য জানুন

মোবাইলে হেডফোনের সতর্কতা তথ্য জানুন

মোবাইলের হেডফোনের সতর্কতা সম্পর্কে আমরা অনেক গুরুত্ব দেই না। আসলে আমাদের এই বিষটি সম্পর্কে একটু সতর্ক হতে হবে। আজকের প্রতিবেদনে আমি হেডফোনের সতর্কতা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

 

মোবাইলে হেডফোনের
তাই কোনও বন্ধু যদি আপনার ইয়ারফোন বা হেডফোন স্পঞ্জ সহ ব্যবহার করে থাকে তবে আপনার অবশ্যই দুবার চিন্তা করা উচিত। এছাড়াও, সংক্রমণ এড়াতে এগুলি পরিষ্কার রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। হাই ভলিউমে কখনই হেডফোন ব্যবহার করবেন না। ৯০ ডেসিবেল বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার আওয়াজ সরাসরি কানে লেগে হতে পারে কানের সমস্যা।

আমরা অনেকেই গান অথবা বিভিন্ন কাজের জন্য মোবাইল হেডফোন ব্যবহার করে থাকি। আবার অনেক মানুষ আছে যারা রাস্তায় যাতায়াত করেন। তারা রাস্তার গাড়ির হর্ন, মানুষেল কোলাহল, ইত্যাদি আওয়াজ এড়ানোর জন্য ব্যবহার করে।

এমন অভ্যাস যদি আপনারও থাকে তাহলে এখনি আপনার সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। এর মূল কারণ হলো অনেক গবেষকরা গবেষণা করে বলেছেন যে দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার করার ফলে হতে পারে মারাক্তক সমস্যা।

আজকের এই প্রতিবেদনে আমি হেডফোন ব্যবহারের সতর্কতা সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, লং টাইম হেডফোন ব্যবহার করার ফলে কী কী ক্ষতি বা সমস্যা হতে পারে।

 

মোবাইলে হেডফোনের সতর্কতা তথ্য জানুন

১. শ্রবণ শক্তির সমস্যা হয়

২. কানে সংক্রামণ রোগ হতে পারে

৩. এয়ারপ্যাড সংক্রামিত হয়

৪. কানে সোনা যায় না

৫. কানে বাতাস না ডোকার প্রবণতা

৬. মস্তিস্কের জন্য বিপদজনক

৭. দুর্ঘটনা হতে পারে

৮. আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ

উপরের এই কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে যখন আপনি মোবাইলে হেডফোন ব্যবহার করে গান শোনা, কথা বলা বা অন্য কোনা দরকারীও কাজ করা যাবে না।

এছাড়াও যদি আপনি এই বিষয় গুলোর প্রতি সতর্ক না হন তাহলে অনেক মারাক্তক সমস্যাও হতে পারে আপনার জীবনের জন্য। নিচে উপরের এই কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো হলো।

 

১. শ্রবণ শক্তির সমস্যা হয়

হেডফোন ব্যবহার করার ফলে যে অডিও সাউন্ডটা রয়েছে সেটি আমাদের কানের মধ্যে সরাসরি প্রবেশ করে। ১০০ ডেসিবল বা তার বেশি মাত্রায় কোনো শব্দ যদি আমাদের কানের মধ্যে প্রবেশ করে তাহলে আমাদের শ্রবণে সমস্যা হতে পারে।

এমনকি আপনি সারা জীবনের জন্য শ্রবণ শক্তি হাড়িয়ে ফেলতে পারেন। তাই শ্রবণ শক্তি ঠিক রাখতে হলে আপনাকে হেডফোন ব্যবাহর করার বন্ধ করে দিতে হবে।

আরো পড়ুন >> শ্রবণ শক্তি কমে যাওয়ার কারণ ও করণীয়

মোবাইলে হেডফোনের
মাথা এবং কানে আঘাত পেলে। অতিরিক্ত শব্দ, যেমন পেশাগত কারণে যন্ত্রপাতির অতিরিক্ত শব্দ, হটাৎ কোনও বিষ্ফোরণ। অতিরিক্ত আওয়াজে অডিও ডিভাইসের ব্যাবহার, দীর্ঘ সময় কনসার্ট, নাইটক্লাব, ক্রীড়া ইভেন্টে উপস্থিত থেকে উচ্চস্বরে শব্দ শ্রবণ। বার্ধক্য অবস্থায়, এসময় বিশেষ সংবেদনশীল কোষগুলো কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

 

২. কানে সংক্রামণ রোগ হতে পারে

আমরা অনকে সময় আমাদের হেডফোন বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি। আসলে হেডফোন কারো সাথে শেয়ার না করাই ভালো বলে আমি মনে করি।

কারণ হলো এতে করে কানের সংক্রামণ রোগ হতে পারে। অন্য করো কানে থেকে বেক্টেরিয়া হেডফোরেন মাধ্যমে আপনার কাছে আসতে পারে। তাই এই বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকবেন।

 

মোবাইলে হেডফোনের
কিছু সাধারণ কানের রোগ হলো ওটাইটিস (কানে প্রদাহ), টিনিটাস (কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ), কানে খোল জমা হওয়া বা কান বন্ধ, মেনিয়ার্স ডিজিজ (ভার্টিগো এবং টিনিটাস),অটোমাইকোসিস (কানে ছত্রাক সংক্রমণ), ব্যারোট্রমা (বায়ুর চাপ পরিবর্তনের কারণে কানে আঘাত), ভেস্টিবুলার নিউরাইটিস (ভাইরাল সংক্রমণের কারণে ভেস্টিবুলার স্নায়ুতে প্রদাহ)

আরো পড়ুন >> ২০২১ টি-২০ বিশ্বকাপ এর যত রেকোর্ডসমূহ জেনে নিন

 

৩. এয়ারপ্যাড সংক্রামিত হয়

আমরা অনেক সময় একটি ভুল সবসময় করে থাকি আর সেটি হলো যেখানে সেখানে হেডফোনকে রেখে দেই। এর ফলে যে সমস্যাটি হয় সেটি হলো এয়ারপ্যাড সংক্রমিত হওয়ার সমভাবনা বেড়ে যায়।

এর ফলে পরবর্তী সময়ে কানের সংক্রামণে গুরুতর ভূমিকা রাখে। তাই আমরা যখন হেডফোন ব্যবহার করবো তখন যেখানে সেখানে হেডফোনকে রাখবো না।

 

৪. কানে সোনা যায় না

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছেন, গবেষণায় দেখা গেছে যে দীর্ঘ সময় ধরে যদি জোরে ভলিয়াম দিয়ে গান সোনা যায় তাহলে কানে সোনা যায় না।

এজন্য কখনই হেডফোন কানে লাগিয়ে কখনই জরে ভলিয়াম দিয়ে গান শুনবেন না। যদি সর্বউচ্চ সাউন্ড দিতে চান তাহলে ৭০ থেকে ৮০ ডেসিবেল শব্দে গান শুনতে পারবেন।

কারণ জরে শব্দ করলে এটি কানের পর্দায় গিয়ে আঘাত হানে। দীর্ঘদিন ধরে যদি এটি চলতে থাকে তাহলে একসময় আসাতে আসতে কান শব্দ সোনা বন্ধ করে নেয়।

 

৫. কানে বাতাস না ডোকার প্রবণতা

মোবাইলে হেডফোনের লাগানোর কারণে আমাদের কানের মধ্যে কোনো প্রকার বাতাস প্রবেশ করতে পারে। বর্তমানের হেডফোন কম্পানিগুলো এখণ তাদের হেডফোনের অডিও এক্সপেরিয়েন্সের জন্য বাড়তি নজর দিয়েছে। আর এজন্য সাউন্ড কোয়ালিটি বজায় থাকে।

বেশিরভাগ হেডফোন এয়ার-টাইট। এই হেডফোন গুলো এতো টাইট থাকে যে কানের ভেতরে কোনো বাতাস ঢুকতে পারেনা। কানে বাতাস না ঢোকার কারণে সংক্রামনের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

 

৬. মস্তিস্কের জন্য বিপদজনক

মোবাইলে হেডফোনের সঠিক ব্যবহার না করতে পারলে মস্তিস্কের মারাক্তক ধরনের ক্ষতি হতে পারে। যারা হেডফোন ব্যবহার করেন তাদের জণ্য এই বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

কারণ আমাদের চলার মূল চাবিকাঠি হলো মস্তিস্ক আর যদি এই মস্তিস্কের কোনো প্রকার ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে জীবনই শেষ হয়ে যাবে।

আমাদের ব্যবহার করা হেডফোন থেকে সৃষ্ট ইলেকট্রম্যাগনেটিক তরঙ্গ মস্তিস্কের জন্য গুরুতর বিপদ ডেকে আনতে পারে। ব্লুটুথ হেডফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি আরো বেশি ঝুঁকির।

আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে যে কানের সাথে মস্তিস্কের একটা সম্পর্ক রয়েছে। তাই হেডফোন ব্যবহারে এখণ থেকেই সতর্ক হন।

 

৭. দুর্ঘটনা হতে পারে 

মোবাইলে হেডফোনের মাধ্যমেও দুর্ঘটনা হতে পারে। রাস্তা, সাইকেল কিংবা মোটরসাইকেল চালানোর সময় অথবা যেকোনো জায়গায় যাতায়াতের সময় কখনই হেডফোন ব্যবহার করবেন না। যদি কানে হেডফোন লাগানো থাকে তাহলে অবশ্যই খুলে রাখবেন।

কারণ আপনার কানে যদি হেডফোন থাকে তাহলে বাইরের কোনো শব্দ আপনার কানে ঠিক মতো পৌছাবে না। আর যদি চলাচলের সময় আপনার কানে কোনো শব্দ না পৌছায় তাহলে অনেক বড় দুর্ঘটনা হতে পারে। তাই এখণ থেকেই শতর্ক হতে হবে সকলকে।

 

৮. আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ

আমাদের প্রতিবেদনের সর্বশেষ পয়েন্ট যেটি রয়েছে সেটি হলো হেডফোন ব্যবহার করা আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ। শুনতে হাস্যকর মনে হলেও এটি একটি শত্য কথা।

গাড়ি, সাইকেল, মোটরসাইকেল ইত্যাদি চালানোর সময় হেডফোন ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ। হেডফোন কানে দিয়ে কেউ গান বাজুক আর না বাজুক, হেডফোন কানে দেওয়া জাবে না।

এমন কি রাস্তাচলাচল করার সময় হেডফোন কানে দিয়ে কারো সাথে কথা বলাও জাবে না। তাই আমরা এই বিষয়টি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা চেষ্টা করবো।

 

উপসংহার

মোবাইলে হেডফোনের পোস্টির মাধ্যমে আমরা মোবাইলে হেডফোনের সকল সতর্কতা জানতে পেরেছি। তো বন্ধুরা এই ছিলো আমাদের আজকের প্রতিবেদন আশা করি এই প্রতিবেদনটি আপনার অনেক কাজে আসবে। আর সবসময় ছোট বড় যা নিয়ম আছে সেই সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

এতোক্ষণ প্রতিবেদনটি মন দিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে অসখ্য ধন্যবাদ। আর নিয়োমিত খেলাধুলা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের এই ওয়েবসাইটের সাথেই সবসময় থাকবেন।

Leave a Comment