ইন্ডিয়াতে অনলাইন গেইম এর কি কি ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে

ইন্ডিয়াতে অনলাইন গেইম এর কি কি ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে

অনলাইন গেইম অনেক আগে থেকেই আমাদের দেশে আসছে। ইদানিং যেই পরিমাণে দেখা যাচ্ছে আগে এতটা বেশি দেখা যেতো না। এর একটা খারাপ প্রভাব হয়তো সমাজে খুব অল্প দিনেই পড়বে।

 

আমরা হয়তো বিষয়টাকে তেমনভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি না। তবে এটা নিয়ে আমাদেরকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। ইন্ডিয়ার মত দেশ পৃথিবীতে খুবই কম সংখ্যকই আছে। যেখানে পুরো দেশ মিলে প্রায় ১৫০ কোটিরও বেশি লোক বসাবাস করে থাকে।

এখানের মানুষগুলো কিছু অঞ্চলের আছে এখনও অনেক বেশিই ধর্মপরায়ন এবং অনেক বেশি ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসী। আসলে অন্ধ বিশ্বাসের কারণেই অনেক সময় অনেক মানুষ নিজের পছন্দমত সেক্টরে যেতে পারেন না।

আজকের আর্টিকেলে আমি এরকম একটা লিস্ট জানানোর চেষ্টা করবো। যেখানে এই গেইমগুলো খেলার ফলে যেই একটা ক্ষতির প্রভাব সমাজ তথা দেশের উপর পড়বে সেটা আলোচনা করার চেষ্টা করবো। যদিও এর আসল অংশ হবে ভিডিও তবে লিখার মাধ্যমেও অনেক কিছু প্রকাশ করা যায়।

 

ক্ষতিকর প্রভাব গুলোর মধ্যে নিচেরগুলো অন্যতম। যেমন,

১. ইন্ডিয়ার অর্থ বাইরে চলে যাওয়া

এটাকে জাতীয় ক্ষতি বলবো আমি। কিছুদিন আগের ঘটনা। একজন স্টুডেন্ট যে কিনা হয়তো হাইস্কুলে পড়াশোনা করে। সে তার বাবার ক্রেডিট কার্ড দিয়ে গেমের সাইবস্ক্রাইবার কিনে দিচ্ছি। এই গেইমগুলো যদি নিজেদের দেশের শিক্ষিত সমাজ থেকে তৈরি হতো তাহলে বিষয়টা কি হতো ভেবে দেখবেন।

একটা দেশের ভেতরের অর্থ দেশের বাইরে চলে যাওয়াটা এক প্রকারের অন্যায় আর এই অন্যায় কাজের জন্য আসলে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। আমাদের দেশের সরকার অবশ্য এ নিয়ে কাজ করছে। তবে সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের উচিত এই বিষয়টাতে সরকারের সাথে এক হয়ে সহযোগীতা করা।

আমাদেরই সন্তানরা হয়তো আজকে মোবাইল বা ইন্টারনেট ব্যবহার করার মাধ্যমেই এই দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমানে ইউটিউব অনেক জনপ্রিয় একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আর অনেক ছেলেমেয়েরাই আছে যারা ইউটিউব থেকেই মূলত এসব বিষয়গুলো শিখে থাকে। আজকের দিকে আর মানুষ শেখার জন্য পায়ে হেটে গিয়ে শিখতে হয় না।

 

শেখার জন্য অবশ্যই তাদেরকে অনলাইন সংযোগটা থাকতেই যথেষ্ট হয়ে যায়। আর আগে একটা সময় ছিল এমন যেখানে শেখার মাধ্যমের অভাবের কারণে অনেকেই আছে যারা নিজেদের মূল্যবান অনেক তথ্যগুলো জানতে বা শিখতো পারতো না।

অনলাইনে এমন অনেক চ্যানেল আছে যেগুলো কিভাবে কোন গেইম সেটিং করতে হয় আর কোন গেমেইর কি ধরনের সুবিধা এসব বিষয়গুলো হাতে কলমে ধরিয়ে দেয়। আর এই ধরনের চ্যানেলের আবার ভিউ এবং সাবক্রাইবারও অনেক।

তাই আমাদেরকে অবশ্যই দেশের সম্পদ যেন বাইরে চলে না যায় সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আর দেশের আর্থিক লেনদেন এর বিষয়টার প্রতি আমাদেরকে সচেতন হতে হবে।

>> ইন্ডিয়াতে অনলাইন গেইম এর কি কি ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে

>> অনলাইন গেইম এর প্রতি আসক্তি কমানোর উপায়

 

 

২. পারিবারিক দ্বন্ধ তৈরি হয় এর জন্য 

অনেক সময় আমরা লক্ষ্য করলে দেখে থাকবো। প্রত্যেকটি শিশু তার প্রাথমিক শিক্ষাটা পরিবার থেকেই নিয়ে থাকে। শিশুরা ডিভাইসের ব্যবহার আর ডিভাইস এর মাধ্যমে ইন্টার ব্যবহার করা এসব বিষয়গুলো আসলে পরিবারের মাধ্যমেই শিখতে থাকে।

বর্তমান সময়ে শিশুরা ডিভাইস সম্পর্কে যতটা জ্ঞান রাখে বড়রা ততটা রাখে না বললেই চলে। আসলে আমরা তো বর্তমানে অনেক বেশিই আবেগ প্রবণ একটা মানুষ। সন্তানদের কান্না আমরা সহ্য করতে পারি না। আবার এই সন্তানই যখন বিপথে চলে যায় তখন আমরাই তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করতে থাকি।

গত ২৩ জানুয়ারি ২০২১ এর ঘটনা। আমি এক দোকানে গিয়েছিলাম সামান্য কিছু কাজের জন্য সেখানে একজন তার সন্তানের সাথে কথাবার্তার বিষয়টা বলেছেন। আসলে আমি আলোচনাটা শুনতেছিলাম এবং বোঝার চেস্টা করতেছিলাম।

সবশেষে যা বুঝলাম তা হলো আসলে বর্তমান সময়ে আমরা আমাদের সন্তানদেরকে বাইরে খেলাধূলা করতে পাঠায় না। আর আগেকার দিনের মা-বাবাদের একটা ধারণা ছিল যে, বাইরে গেলে অন্য পরিবারের সন্তানদের সাথে মিলে-মিলে সন্তান খারাপ হয়ে যেতে পারে যা বর্তমানে অনেক পুরানো কথার মতই শোনায়।

কিন্তু বর্তমানে মা-বাবারা বুঝতেছেন সন্তানদেরকে বাইরে পাঠানো দরকার কারণ ঘরের মধ্যেই যে সব ডিভাইস বা যা শিখতেছে তা সত্যিই অনেক বেদনাদায়ক। আর এখন সন্তানদেরকে জোর করেও বাইরে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

ধারণা করা হচ্ছে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মানে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যেই আমাদের সন্তানদের জন্য প্রযুক্তির এই অপব্যবহার অনেক বেশি হুমকি হিসেবে কাজ করবে। আর দেরি নয় এখনই সময় প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করার। এখনই যদি আমরা সচেতন না হই তাহলে হয়তো অনেকটাই দেরি হয়ে যাবে সন্তানদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য।

 

৩. মানসিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে এই নেশার কারণেে 

ইন্ডিয়া বা ভারত বিশ্বের অন্যতম তম একটি দেশ। এই দেশের সকল মানুষই অনেক প্রতিভাবান এবং অনেক পরিশ্রমী আর এখানে মানুষগুলো অনেক জানার জন্য আগ্রহী। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে একটা করেছিল টিম নিউজ ইন্ডিয়া নামের একটি সংস্থা।

সেখানে তারা দেখেছে যে, আতাদের দেশের যারা রাজধানীতে থাকে তাদের মধ্যে ৭০% মানুষের ডিজিটাল ডিভাইসগুলো আছে। এবং যাদের সন্তানরা অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে থাকে। আর তারা একাকিত্ব দূর করার জন্যই মূলত এই অনলাইন গেইম খেলে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৫% শিক্ষার্থীই মানসিক সমস্যার শিকার হয়ে থাকে। আর ইন্ডিয়ার এক গবেষনা দল বের করেছে যে, বেশির ভাগই শিক্ষার্থীর মানসিক সমস্যাটা হয় একঘেয়েমি থেকে আর এই এক ঘেয়েমি আসে মূলত অনলাইন গেমের আসক্তি থেকে।

আমরা নিজেরাও নিজেদের ক্ষতির বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারি না। আসলে সাময়িক বিষয়টা আমরা বুঝি কম বিধায় সমস্যাগুলো আমাদের চোখে পড়ে না। আমাদের সন্তানদের আমরা বাইরে খারাপ হয়ে যাওয়ার ভয়ে বাসায় রেখে দিতে চায়।

অথচ বর্তমানে বাসায় বসেই ভিডিও ও অনলাইন গেমের মাধ্যমে বিপথের পথে হাঁটছে তারা। আমাদের এখনই সচেতন হওয়ার উত্তম সময়। হয়তো পরে যদি আমরা সচেতন হই তাহলে অনেকটাই দেরি হয়ে যাবে। আমাদের সন্তানদেরকে ডিভাইস দেওয়ার আগে আমাদেরকে অবশ্যই চিন্তা করে কিনে দিতে হবে। যেমন তারা বিপথে না যায়।

অনেক সময় কাজের সময় তারা সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে আর কোন কাজ কোন সময় কিভাবে করতে হবে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। যার অন্যতম কারণ হিসেবে ডাক্তারা ২০২০ সালের দিকে এক গবেষনায় বলেছেন যে, এগুলো মানসিক সমস্যার কারণে হয়ে থাকে।

মানসিক বিষণ্যতার কারণে তারা অনেক সময় এই বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিতে পারে না। আর আমাদের মনোযোগ আসলে দীর্ঘ সময়ের জন্য হয় না। আমরা যখন কোন কিছু করার জন্য প্লান করি তখন অনেক সময় তা ঠিকমত হয়ে উঠে না।

ডাক্তাররা কোন ব্যক্তিকে দেখে তার যে মানসিক সমস্যা আছে বোঝার বেশ কিছু পদ্ধতি বলে দিয়েছেন। সেগুলো হলো,

(ক) কথাবার্তা বলার সময় হিতাহিত জ্ঞান না থাকা।

(খ) সম্পর্কের জের ধরে কথা বার্তা না বলা। মানে কার সাথে কি ধরনের ব্যবহার করতে হবে বুঝতে না পারাটাও এক ধরনের মানসিক সমস্যা।

(গ) নিজেকে বড় ভাবা আর অন্যদেরকে ছোট ভাবা। মানে আপনি নিজেই সব কিছু জানেন আর বাকিরা কম জানে এমন কিছু।

(ঘ) হঠাৎই কথা বার্তা বলার সময় রেগে যাওয়া।

(ঙ) কাজের পারফমেন্স ঠিকমত না আসা।

(চ) ইত্যাদি।

 

৪. কিশোর গ্যাঙ তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ এই গেইম

বাংলাদেশ ও ভারত এই দুই দেশের জরিপে উঠে এসেছে বিষয়টা। কিছুদিন আগে হবে হয়তো আনুমানিক ২০২১ সালের মার্চ মাসের দিকে। বাংলাদেশী কিশোর গ্যাঙ এর কারণে বেশ কয়েকজন কিশোর আহত এবং কিছু খুন হওয়ার ঘটনা মিডিয়াতে আসে।

সিসি টিভির ভিডিওতে প্রকাশ্যে খুন করার ঘটনাটি অনেককেই কাদিয়েছে। পুরান ঢাকার একজন ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীতের বেশ কয়েকজন কিশোর মিলে প্রথমে তাড়া করে এবং শেষে ধরে মেরে বালুর মাঠে ফেলে রাখে। কিশোর এলাকার মধ্যে ভালো ছেলে হিসেবেই সবাই জানতো।

কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটেছে তা সবারই অজানা হয়ে আছে। আসলে এমন ঘটনার ভুক্তভোগীরাই শেষ সময়ে সমস্যা বা হারানোর বিষয়টা জানেন বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। ঘটনাটি সময় টিভি সহ আরও বেশ কিছু মিডিয়াতে আসছিল।

Leave a Comment